বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের (TikTok) জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভিডিও ধারণের সর্বনাশা নেশা আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিল। কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পানিতে পড়ে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। দুর্ঘটনার দীর্ঘ আট ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ ওই কিশোরের কোনো সন্ধান মেলেনি। তাকে উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
গতকাল শনিবার (১৮ ১৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের বাগখালী এলাকার নানশ্রী সেতুসংলগ্ন এলাকায় এই শিউরে ওঠা দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ হওয়া ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরের নাম মোনায়েম হোসেন। সে নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে মোনায়েম ও তার কয়েকজন বন্ধু নানশ্রী সেতুর পাশে টিকটক ভিডিও ধারণ করার জন্য জড়ো হয়। একপর্যায়ে ভিডিওতে চমক তৈরি করতে মোনায়েম সেতুর ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেয়ে ওপরে উঠে যায়। খুঁটির ওপর থেকে নিচের গভীর পানিতে লাফ দেওয়ার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার চেষ্টা চালাচ্ছিল সে। কিন্তু অসাবধানতাবশত খুঁটির মূল সঞ্চালন লাইনের তারের সাথে স্পর্শ লেগে সে তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় এবং সরাসরি নিচে পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ রয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজে নেমে পানিতে তল্লাশি চালায়। কিন্তু তার কোনো হদিস না পেয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে নিকলী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। একই সঙ্গে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাঁড়াশি উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিখোঁজ কিশোর মোনায়েমকে অক্ষত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তীব্র স্রোত উপেক্ষা করে পানির নিচে নিখোঁজের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। কিশোর-কিশোরীদের এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ টিকটক বা লাইকি ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।”



