ভোলায় মুদি ব্যবসায়ীর খাটের নিচ থেকে ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার

ভোলার লালমোহন উপজেলায় প্রকৃত ও দুস্থ জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাদ্য সহায়তার (ভিজিএফ) চাল কালোবাজারে পাচারের এক চরম ন্যক্কারজনক ঘটনা ফাঁস হয়েছে। এক মুদি ব্যবসায়ীর বসতঘরের শোয়ার ঘরের খাটের নিচ থেকে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ১ হাজার ১৭০ কেজি (৩৪ বস্তা) সরকারি চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর অভিযান চালানো হয়।

জানা যায়, লালমোহন উপজেলার কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দার নামের এক প্রভাবশালী মুদি ব্যবসায়ীর বাড়িতে সরকারি চালের একটি বড় চালান লুকিয়ে রাখা হয়েছে— এমন এক সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও লালমোহন থানা পুলিশের একটি যৌথ দল ওই এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। তবে প্রশাসন ও পুলিশের বিপুল উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর ব্যবসায়ী জসিম সর্দার কৌশলে আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে তার বসতঘরের একটি তালাবদ্ধ কক্ষের খাটের নিচে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে সরকারি সিলযুক্ত ৩০ কেজি ওজনের ২৪টি এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯টি বস্তাসহ মোট ৩৪ বস্তা চাল জব্দ করা হয়।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক সরকারি চাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “জব্দকৃত ১ হাজার ১৭০ কেজি সরকারি চাল বর্তমানে সুরতহাল শেষে উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ চাল কীভাবে ও কোন জনপ্রতিনিধি বা ডিলারের মাধ্যমে ওই মুদি ব্যবসায়ীর কাছে গেল এবং কারা এর পেছনে সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছে, তা অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ইউএনও আরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দেশের নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত এই বিশেষ চাল সাধারণ বাজারে বিক্রি বা ব্যক্তিগতভাবে মজুত করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। একজন সাধারণ মুদি ব্যবসায়ীর ঘরে এত বিপুল পরিমাণ সরকারি খাদ্য সহায়তা থাকা স্পষ্টত ফৌজদারি অপরাধ। এ ঘটনায় পলাতক অভিযুক্ত জসিম সর্দারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top