দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর সব ভাতা মিলিয়ে মোট স্কেল দাঁড়াচ্ছে ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে সার্বক্ষণিক গাড়িসুবিধা ব্যতিরেকে সর্বোচ্চ পদের কর্মকর্তা ভাতাসহ মাসে মোট পাবেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী, বিশেষ গ্রেডে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবদের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। চিকিৎসা, বাড়িভাড়া ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন ভাতা যোগ করে তাঁদের মোট মাসিক প্রাপ্তি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। সাধারণ গ্রেডগুলোর মধ্যে ১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে তাঁদের মোট বেতন হবে প্রায় সোয়া দুই লাখ টাকা।
এ ছাড়া বিসিএস ক্যাডারে নবম গ্রেডে যোগ দেওয়া তরুণ কর্মকর্তাদের মূল বেতন ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা, যা ভাতাদিসহ ৬০ হাজার টাকার বেশি দাঁড়াবে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মত অনুমোদিত এই বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে নতুন এই বেতন পুরোটা একবারে প্রদান করা হবে না; এটি ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছর জুড়ে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বাড়িভাড়াসহ অধিকাংশ নতুন হার কার্যকর করা হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন আদেশে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে যারা মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম নিট পেনশন পেতেন, তাঁদের পেনশনের হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অঞ্চলভেদে বাড়িভাড়া এবং উৎসব ও বৈশাখী ভাতায় নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে।



