জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে ভোলা: সাড়ে ২১ কিমি নতুন মহাসড়ক

তেঁতুলিয়া ও মেঘনা নদীবেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলাকে অবশেষে সরাসরি দেশের জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভোলা-মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা-রহমতপুর রুটে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার ৫৬ বছর পর ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের নৌনির্ভর যাতায়াত ও ফেরিঘাটের ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানের আশা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালের এক জনসভায় ভোলা-বরিশাল যোগাযোগের ঘোষণার পর, গত ২২ আগস্ট রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন তিনি। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে ভোলার দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ভোলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম জানান, এই রুটে নতুন করে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুতই কনসালট্যান্ট নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করে মূল নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

ভোলার বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস, ইলিশ, তরমুজ ও কৃষিপণ্যের সহজ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে এই মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর এবং চেম্বার অব কমার্সের নেতারা মনে করছেন, এই সড়ক নির্মাণ হলে জেলায় নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন হবে এবং স্থানীয় খামারিরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন।

ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, “মহাসড়কে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতার গ্লানি থেকে মুক্ত হবে।” অন্যদিকে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে মহাসড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের জোরালো দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভোলার সর্বস্তরের নাগরিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top