ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ালো ওয়াশিংটন, নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, দুবাইয়ে অবস্থিত ইরানের ব্যাংক মেলির (Bank Melli) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং হংকংভিত্তিক ‘কামেং ট্রেডিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানো মিশরের অন্যতম বড় ব্যাংক ‘ব্যাংক মিসর’-এর নির্দিষ্ট শাখার ডলার লেনদেনের সুযোগ বন্ধের প্রস্তাবও আনা হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তেহরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা ও হার্ড কারেন্সি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওয়াশিংটনের কৌশল পরিবর্তনের পেছনে সামরিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ ছয় মাসের তীব্র সংঘাতের পর মার্কিন সেনাবাহিনীতে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুদ কমে আসায় এখন সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত পারস্য উপসাগরের প্রণালীগুলোতে এখনও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

অন্যদিতে নতুন এই নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top