ভারতের উত্তর প্রদেশের অমরোহার হাসানপুর এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে তিন সহোদরা বোনের একযোগে বিবাহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক পেশাদার ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে ওই তিন বোনের বিয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় সমাজ এবং ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হাসানপুরের ঐতিহাসিক চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে। স্থানীয় মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় রীতি মেনে ওই তিন বোন একই যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে খবরটি জানাজানি হতেই স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। পবিত্র ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের বিয়ে ‘সনাতন ধর্মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে দাবি করেন তারা।
বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠলে তিন বোন যৌথভাবে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজেদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান। ভিডিওতে তারা সমালোচকদের জবাব দিয়ে বলেন, “প্রাচীনকালে রাজা দশরথেরও তো তিন রানী ছিলেন। সেটি কি তখন কোনো অপরাধ বা লজ্জার বিষয় ছিল?” পৌরাণিক ঘটনার উদাহরণ টেনে তারা তাদের এই বহুপত্নীক বিয়েকে যৌক্তিক বলে দাবি করার চেষ্টা করেন।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অমরোহার স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সনাতন ধর্মে এবং ভারতীয় আইনি ব্যবস্থায় এক ব্যক্তির একাধিক বিয়ের জটিলতার বিষয়টি উল্লেখ করে অনেকে ঘটনাটির আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সমালোচকদের দাবি, কোনো পৌরাণিক উদাহরণ টেনে বেআইনি বা সামাজিকভাবে অস্বাভাবিক কোনো কাজকে বৈধতা দেওয়া যায় না। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও চর্চা অব্যাহত রয়েছে।



