অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চল জুড়ে একটি ‘ব্যাপক সামরিক অভিযান’ পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ২৪ জুলাই (শুক্রবার) নাবলুস শহরের কাছে তেল (Tell) গ্রামের অদূরে এই প্রাণঘাতী সংঘাত ও গুলির ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “অঞ্চলটিতে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার পর আইডিএফ জোয়ানেরা উক্ত এলাকায় বিস্তৃত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।” একই সাথে পশ্চিম তীরে কর্মরত ইসরায়েলি সেনাদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং স্পর্শকাতর স্থানে অতিরিক্ত সেনাবহর পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারে ঘটে যাওয়া সংঘাত ও গোলাগুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন। অপরদিকে ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, সংঘর্ষের ঘটনায় বন্দুকের গুলিতে বেনায়াহু মেলেট নামে এক ইসরায়েলি নিহত হন এবং আরও দুইজন আহত হন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এক ফিলিস্তিনি নাগরিক ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি বর্ষণ করলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA) জানায়, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল তেল গ্রামের ফিলিস্তিনি ঘরবাড়িতে হামলা চালালে সেখানে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এই প্রাণহানি ঘটে।
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী পূর্ণ শক্তিতে কাজ করবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নাবলুস ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি বেশ কিছু সড়ক অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।



