গোপালগঞ্জে আদালত চলাকালীন এজলাসে বিচারকের ছুড়ে মারা কাচের পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফেটে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ বিচারকাজ চলাকালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ওই আইনজীবীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো. সুজন মিয়ার এজলাসে স্বাভাবিক বিচারকার্য চলছিল। এ সময় এজলাসের পেছনের বেঞ্চে কয়েকজন মক্কেল ও আইনজীবী নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়া টেবিল থেকে একটি কাচের পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন। সেটি গিয়ে সোজা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় আঘাত করলে রক্তপাত শুরু হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় আইনজীবী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুলকদর রহমান বিচারকের এমন আচরণকে চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ও পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও জিপি অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পেশাগত অঙ্গনে নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিচারক মো. সুজন মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



