ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী দিনগুলোর অবিসংবাদিত সম্রাজ্ঞী, বাংলা সিনেমার চিরন্তন ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে খ্যাত কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও রাজনীতিবিদ সারাহ বেগম কবরীর আজ রোববার (১৯ জুলাই) ৭৬তম জন্মবার্ষিকী। ষাট ও সত্তরের দশকের রূপালী পর্দা কাঁপানো এই শীর্ষ নায়িকার জন্মদিনে আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় ও নানা আয়োজনে তাঁকে স্মরণ করছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ সর্বস্তরের অনুরাগীরা।
১৯৫০ সালের ১৯শে জুলাই চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান শিল্পী। পিতা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল এবং মা শ্রীমতি লাবণ্য প্রভা পালের কোল আলো করে আসা এই শিশুটির পারিবারিক নাম রাখা হয়েছিল মিনা পাল। বোয়ালখালীতে জন্ম হলেও তাঁর শৈশব ও কৈশোরের সোনালী দিনগুলোর পুরোটা সময় কেটেছে চট্টগ্রাম নগরীতেই।
পরবর্তীতে চলচ্চিত্র জগতে পা রেখে মিনা পাল থেকে তিনি হয়ে ওঠেন ‘কবরী’। ১৯৬৪ সালে প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’, ‘পরিচয়’, ‘অধিকার’, ‘বেঈমান’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘দীপ নেভে নাই’ এবং কালজয়ী ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ও ‘সারেং বৌ’-এর মতো অসংখ্য সফল ও স্মরণীয় চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আপামর বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন। বিশেষ করে নায়ক রাজ রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর অনবদ্য জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও এক স্বর্ণালি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কবরী নিজেকে একজন সফল নির্মাতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর পরিচালিত ‘আয়না’ এবং অসমাপ্ত কাজ ‘এই তুমি সেই তুমি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর মুনশিয়ানা প্রকাশ পায়। শুধু সেলুলয়েডের ফিতাতেই নয়, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর অবদান ছিল অনন্য। ১৯৭১ সালে কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে ও তহবিল সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করেন।
২০২১ সালের ১৭ই এপ্রিল বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই মহান নেত্রী ও অভিনয়শিল্পী আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নেন। তিনি সশরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর কালজয়ী অভিনয় ও অনন্য কীর্তি কোটি বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।



