খুলনার কয়রা উপজেলায় এক চরম অবহেলা ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির খবর সামনে এসেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, চূড়ান্ত কার্যাদেশ (Work Order) জারির ধীরগতির মাঝেই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়েছে গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতল একাডেমিক ভবন। গত শুক্রবার বিকেলের দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদ ও সামনের বারান্দার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ভবনে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না, যার ফলে এক ভয়াবহ ও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখার নিয়মিত ক্লাস হওয়া এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ভবনের ছাদ, পিলার ও দেওয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সিলিংয়ের পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের মরচে পড়া রড বেরিয়ে এসেছিল। এমনকি সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ত। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নতুন একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কার্যাদেশ জারি করা হয়নি। ফলে নতুন ভবনের কাজ শুরুর আগেই পুরোনো কাঠামোটি ভেঙে পড়ে।
হঠাৎ করে এই প্রধান একাডেমিক ভবনটি ধসে পড়ার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও সংকট দেখা দিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের এই অ্যাকাডেমিক ক্ষতি ও সাময়িক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ রবিবার থেকে পাশের একটি মাত্র একতলা ভবনে শিফটিং বা ভাগাভাগি করে মাধ্যমিক ও কলেজ— উভয় শাখার ক্লাস একসঙ্গে নেওয়ার বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নতুন ভবনের কার্যাদেশ দ্রুত দেওয়া হলে হয়তো এই দুর্ঘটনার আগেই পুরোনো ভবনটি ভেঙে নিরাপদে কাজ শুরু করা যেত। তারা অনতিবিলম্বে নতুন ভবনের কাজ শুরুর জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



