অলটাইম ব্লকবাস্টার হিন্দি সিনেমা ‘৩ ইডিয়টস’ (৩ ইডিয়টস)-এর জনপ্রিয় চরিত্র ‘ফুনসুখ ওয়াংড়ু’ (র্যাঞ্চো) লদাখের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত নয়—অভিনেতা আমির খানের এমন এক মন্তব্যে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমানে নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। এই আন্দোলনের ঠিক মাঝমুহূর্তে আমিরের এমন মন্তব্যকে ‘এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল’ এবং ‘ক্ষমতাসীনদের ভয়ে মেরুদণ্ডহীন অবস্থান’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত হয়ে আমির খান বলেন, “এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ৩ ইডিয়টস সিনেমাটি করার সময় আমি বা ছবির পরিচালক রাজকুমার হিরানি ও লেখক অভিজাত জোশী—আমরা কেউই সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে জানতাম না।” সিনেমাটিতে ‘চাতুর’ চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্য সম্প্রতি সোনম ওয়াংচুককে আসল ‘ফুনসুখ ওয়াংড়ু’ দাবি করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। আমির সেই দাবিও খণ্ডন করে বলেন, “চাতুর যা বলেছে তা ভুল। তবে সোনম ওয়াংচুক যে কাজ করছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং ওনাকে সম্মান জানাতে আমাদের চরিত্রের কোনো তকমা লাগবে না।” একই সঙ্গে তিনি সোনমের অনশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
আমির খানের এই মন্তব্যের পরই ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। সাবেক কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় ঝা তীব্র কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমির খান এখন বলছেন ৩ ইডিয়টস-এর ফুনসুখ ওয়াংড়ু সোনম ওয়াংচুকের দ্বারা অনুপ্রাণিত নয়। একদম ঠিক। ঠিক যেমন ১৯৮২ সালের ‘গান্ধী’ সিনেমাটি মহাত্মা গান্ধীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি।” রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) রাজ্যসভার এমপি মনোজ ঝা প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন পর ছবি মুক্তির এত বছর পর কেন আমির এই সাফাই দিচ্ছেন? তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের ক্ষমতার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা মেরুদণ্ড রাখা সবার পক্ষে সহজ কাজ নয়।”
আম আদমি পার্টির (আপ) রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংও সুর চড়িয়ে বলেন, মোদী সরকার এই সমস্ত তারকাদের চরিত্র উন্মোচন করে দিয়েছে এবং সবাই আজ সরকারের সামনে নতজানু হয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে মানুষটি ‘৩ ইডিয়টস’ বা ‘সত্যমেভ জয়তে’র মতো বৈপ্লবিক কাজ করেছিলেন, আজ তিনি তাঁর ছায়ামাত্রে পরিণত হয়েছেন।
তবে বিতর্কের বিপরীতে বলিউডের একটি বড় অংশ এবং খোদ রাজকুমার হিরানির পুরনো সাক্ষাৎকার আমির খানের এই দাবিকেই সমর্থন করে। হিরানি অতীতে জানিয়েছিলেন যে, র্যাঞ্চো চরিত্রটি পুনের এফটিআইআই (FTII)-এর এক ছদ্মবেশী ছাত্রের সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত, কোনো লদাখি উদ্ভাবকের জীবন থেকে নয়। সোনম ওয়াংচুকও এর আগে অমিতাভ বচ্চনের ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র মঞ্চে বলেছিলেন যে, সিনেমাটি তাঁর জীবন দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, তবে এটি তাঁর জীবনকাহিনী নয়।



